এক্রেলিক রং ও তেল রং এর পার্থক্য কী? তেল পেন্টিং কি? এক্রাইলিক কালার কি? What is oil painting? What is acrylic color?

এক্রেলিক রং ও তেল রং এর পার্থক্য কী? তেল পেন্টিং কি? এক্রাইলিক কালার কি? What is oil painting? What is acrylic color?

তেলরং বহু প্রচলিত এবং এক্রেলিক রং ও বহু প্রচলিত। আমরা আজকে তেল রং এবং এক্রেলিক রঙের পার্থক্য জানবো এবং এর গুনাগুন জানব। আপনি যদি একজন নতুন শিল্পী হন, আপনি পেইন্টিং করতে ইচ্ছুক পেইন্টিং করতে আপনার ভালো লাগে, তাহলে আপনার জন্য কোনটা ভাল হবে? তেল রঙ নাকি এক্রেলিক রং? সে বিষয়ে আলোচনা করব। তবে আমার পরামর্শ হচ্ছে আপনি প্রথম অ্যাক্রলিক রং দিয়ে নিজের হাতটাকে সেট করে নিন, তারপর ধীরে ধীরে তেলরঙের দিকে কনভার্ট হয়ে যান। নতুনদের জন্য যারা সবেমাত্র ওয়াটার কালার এবং ওয়েল পেস্টেল কালার কমপ্লিট করেছে তাদের জন্য এক্রেলিক কালার একটি সুন্দর উজ্জ্বল কালার, এটি ব্যবহার করে আপনি খুব সুন্দর ছবি আঁকতে পারবেন। তবে তেল রং হচ্ছে আলাদা মার্জিত কালার যা দিয়ে আপনি খুব সুন্দর ছবি আঁকতে পারবেন। তাই আপনি প্রথমত এক্রেলিক কালার তারপরে তেল রং দিয়ে ছবি আঁকুন। আমাদের পোস্টটি মনোযোগ সহকারে পড়ুন, আমরা আজকে তেল রং এবং এক্রেলিক কালার এর বিষয়বস্তু আলোচনা করব।

তেল পেন্টিং কি?

তেল পেন্টিং হলো তেলরঙের কাজ করা পেন্টিং। আমরা জানি অয়েল পেইন্টিং বা তেল পেন্টিং রং হল রঙ্গক দিয়ে পেইন্টিংয়ের প্রক্রিয়া যা বাইন্ডার হিসাবে তেল শুকানোর মাধ্যম। সাধারণত অয়েল পেইন্টিং ব্যবহৃত শুকনো তেলের মধ্যে রয়েছে তিসি তেল, পোস্ত বীজ তেল, আখরোট তেল এবং কুসুম তেল, এছাড়া আরো নানা ধরণের দ্রব্য মিশ্রণ করা হয়ে থাকে। কোন সন্দেহ নেই যে তেলরঙে কাজ করা পৃন্টিং গুলো খুবই সুন্দর এবং দর্শক আকর্ষণীয় হয়ে থাকে। তবে তেলরঙের কাজ করা একটু বিপজ্জনক বটে। তেলরঙের এসিডিক পদার্থ মিশ্রণ থাকে, হাতে পায়ে লাগলে এফেক্ট হতে পারে, এর জন্য সুরক্ষা ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। তেল রং কে পাতলা করা যেতে পারে এবং গারো করেও ব্যবহার করা যেতে পারে। পাতলা করার জন্য তারপিন তেল বা লিনসিড অয়েল ব্যবহার করা হয়ে থাকে। 

তেল রং করার নিয়ম, তেল রং এর বৈশিষ্ট্য, তেল রং এর দাম, তেল রং এর ছবি, তেল রং কাকে বলে, এক্রাইলিক রং এর দাম, এক্রেলিক রং ও তেল রং এর পার্থক্য কী, এক্রাইলিক VS অয়েল পাশাপাশি পাশের অভিজ্ঞতা

তেল রং হল বহু সাল পর্যন্ত টিকে থাকা এমন একটি রং  যা শতাব্দীর পর শতাব্দী চলে যাবে কিন্তু তেলরঙে আঁকা ছবিগুলো একই রকম থেকে যায়। এতে দীর্ঘ লাস্টিং করার ক্ষমতা থাকে। তেল রংকে আমরা শুকনো করে খসখসে ভাবে ব্যবহার করতে পারি, ডাইরেক্ট তেলরং টিউব থেকে বের করার পর ব্যবহার করা যায়। আবার তেলরং পাতলা করে ব্যবহার করা যায়, তেলরং পেইন্টিং অনেক দীর্ঘ সময় ধরে পেন্টিং করতে হয়, কোন পেন্টিং খুব অল্প সময়ের মধ্যে কমপ্লিট করা যায় না। আপনি দীর্ঘ সময় ধরে পেন্টিং করতে করতে এর মধ্যে অনেক পরিবর্তন করতে পারেন। তেলরং কমপ্লিট করার জন্য কমসেকম এক সপ্তাহ থেকে দু সপ্তাহ লেগে যেতে পারে। হাতে লেগে গেলে বা জামা কাপড়এ লেগে গেলে পরিষ্কার করা খুব সহজ হয় না, তাই আপনাকে সবসময় সর্তকতা অবলম্বন করে ব্যবহার করতে হবে।

এক্রাইলিক কালার কি?

এক্রাইলিক পেইন্ট বা এক্রাইলিক কালার হল এক্রাইলিক পলিমার ইমালসন এবং প্লাস্টিকাইজার, সিলিকন তেল, ডিফোয়ামার, স্টেবিলাইজার বা ধাতব সাবানে স্থগিত রঙ্গক দিয়ে তৈরি করা একটি দ্রুত শুকিয়ে যাওয়া ও রেডি মেড কালার বলা যেতে পারে। এক্রাইলিক পেইন্টগুলি সাধারণত জল-ভিত্তিক, তবে শুকিয়ে গেলে জল-প্রতিরোধী হয়ে ওঠে, ও দীর্ঘ জিবি হয়ে ওঠে। তবে অ্যাক্রিলিক পেইন্টিং অয়েল কালার এর মত বিষাক্ত নয়, এটি খুব সহজেই হাতে-পায়ে লাগিয়েও উঠে যায়। তবে জামা কাপড়ে লাগলে তা বলা খুব মুশকিল হয়ে যায় কারণ এটা ফেব্রিকে ব্যবহার করবার জন্য কালার। এটি খুব সহজে ব্যবহার করা যায়, খুব সহজে কাজ করে খুব সুন্দর সুন্দর পেইন্টিং তৈরি করে নেওয়া যায়। পৃথিবীর নানা প্রান্তে এর ব্যবহার দেখা যায় এবং বহুল প্রচলিত মধ্যে অ্যাক্রিলিক পেইন্টিং অন্যতম। 

Best Painting by Asgar Molla

অ্যাক্রিলিক পেইন্টিং করবার সময় আপনাকে খুবই দ্রুত পেন্টিং করতে হবে, এটি খুব তাড়াতাড়ি শুকিয়ে যায় ও আপনার পেন্টিং করা অসুবিধা হতে পারে। তবে আপনার যদি কোন ভুল হয়ে যায় তো আপনি তার উপরে রং দিতে চেপে দিতে পারবেন কিন্তু কোন রং তুলে নিতে পারবেন না। ব্রাশ গুলো খুব সুন্দর করে পরিষ্কার করে রাখবেন, নইলে একবার ব্যবহার করলেই ব্রাশ খারাপ হয়ে যাবে। ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য এক্রেলিক কালার খুবই ভালো রং, বেশ সস্তায় এবং সহজে ব্যবহার করবার মতো একটি রং। এর দ্বারা আপনি ক্যানভাসের অভিজ্ঞতা পেয়ে যাবেন। ধীরে ধীরে আপনি অয়েল কালার দিকে যেতে পারবেন, প্রথমত আপনাকে এক্রেলিক কালার হাত সেট করে নিতে হবে।

অয়েল কালার এবং এক্রেলিক কালার এর মধ্যে পার্থক্য কি?

০১. ব্যবহারের মাধ্যম:
তেল পেন্টিং ওয়েল ব্যবহার করে আঁকা হয়, তাই অয়েল কালার হচ্ছে তেলভিত্তিক। অ্যাক্রিলিক পেইন্টিং জল ব্যবহার করে আঁকা হয়, তাই এটি হচ্ছে জল ভিত্তিক।

০২. চেহারা:
উভয় অ্যাক্রিলিক পেইন্টিং এবং তেল পেন্টিং খুবই সুন্দর, অয়েল পেইন্টিং অ্যাক্রিলিক পেইন্টিং এর চেয়ে আরো বেশি সুন্দর স্পন্দনশীল এবং গভীর বেশিরভাগ শিল্পীরা ফ্ল্যাটে চিত্রশিল্প আঁকার সময় এক্রেলিক কালার ব্যবহার করে থাকে, যেটাকে সাধারণত ওয়াল পেইন্টিং বলে থাকি আমরা।

০৩. শুকিয়ে যাওয়া সময়:
অ্যাক্রিলিক পেইন্টিং খুব সহজে এবং তাড়াতাড়ি শুকিয়ে যায় এক থেকে দুই মিনিটের মধ্যে, কিংবা তার চেয়েও কম সময়ে। কিন্তু অয়েল কালার এক থেকে দেড় দিন নিয়ে নেয় শুকোনোর জন্য।

০৪. কার জন্য:
অ্যাক্রিলিক পেইন্টিং বিগিনার লেভেলের শিল্পীরা কাজ করতে পারবে। কিন্তু অয়েল পেইন্টিং এডভান্স লেভেল ছাড়া পারবেনা।

০৫. খরচ:
তেলরং অনেক দামি এটি কেনার জন্য আপনাকে অনেক টাকা খরচা করতে হতে পারে। কিন্তু এক্রেলিক কালার অনেকটাই সস্তা আপনি এটাকে খুব সহজে ও অল্প টাকায় কিনে ফেলতে পারবেন।

০৬. আয়:
অ্যাক্রলিক পেইন্ট কালার অনেক বেশী সস্তা হয়, এবং মার্কেটে কম দামে বিক্রি হয়। কিন্তু তেল পেন্টিং অনেক বেশি দামি এবং পেন্টিং মার্কেটে খুব বেশি দামে বিক্রি হয় ও প্রচুর পরিমাণে বিক্রি হয়।

০৭. বিষাক্ততা:
তেলরং এক এক্রেলিক এর চেয়ে অনেক বেশি বিষাক্ত হয়, এটি এসিড যুক্ত থাকে। কিন্তু এক্রেলিক কালার বিষাক্ত হয়না, সহজে ব্যবহার করা যায় হাতে পায়ে লেগে গেলে তুলে দেওয়া যায়।

Acrylic Colors, Acrylic Painting Colors,পোস্টার কালার কি, কালার রং এর দাম, পেইন্টিং কি, ফেব্রিক কালার ডিজাইন, বিভিন্ন কালার, ফেব্রিক কালার দাম, পেইন্টিং করতে কি কি লাগে, What is acrylic colour
এক্রেলিক রং ও তেল রং এর পার্থক্য কী? তেল পেন্টিং কি? এক্রাইলিক কালার কি? What is oil painting? What is acrylic color?

আমি আপনাকে বলব আপনি প্রথমে এক্রেলিক কালার দিয়ে শুরু করতে পারেন। এবং ধীরে ধীরে প্র্যাকটিস হয়ে গেলে একটু এডভান্স লেভেলে চলে এলে, তবে তেল কালার দিয়ে ছবি আঁকতে পারেন। কারণ তেল কলার একটি বিষাক্ত কালার ও এটা ব্যবহার খুব সাবধানে করতে হয়। তাছাড়া এর জন্য প্রচুর দক্ষতার প্রয়োজন হয়। দক্ষতা অনুযায়ী কাজ করা খুবই ভালো, তাতে পেইন্টিং ভালো হয়। আপনি যদি এক্রেলিক কালারএ পেন্টিং করেন তাহলে আপনার অভ্যাস খুব ভালো হবে, খুব অল্প সময়ের মধ্যে আপনি সুন্দর সুন্দর পেইন্টিং তৈরী করতে পারবেন। আপনি যখন অভিজ্ঞ হয়ে যাবেন, আপনার পেন্টিন অয়েল কালার বানানো হবে, তখনি আপনার পেন্টিং অনেক বেশি বিক্রি হবে।

আশা করি আপনার পেন্টিং ক্যারিয়ার খুব ভালো কাটবে, পেন্টিং ক্যারিয়ার একটি মজাদার ক্যারিয়ার। খুব বেশি ভাবনা খুব বেশি আবেগ এবং খুব বেশি উজ্জ্বল স্বপ্ন নিয়ে শিল্পীরা ছবি আঁকতো থাকে। আমি নিজেও একজন শিল্পী, আমি এক্রেলিক কালার কাজ করি বেশিরভাগ। এক্রাইলিক কালার টা আমার কাছে খুব সহজ মনে হয় এবং সহজে ভালো পেইন্টিং তৈরি করতে পারি। আপনার পছন্দ আপনি কোনটা ব্যবহার করবেন, আপনি সব ভালো-মন্দ এতক্ষণ জেনে গেছেন, আমাদের পোস্টটা মন দিয়ে পড়ার জন্য আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ। আগামী পোষ্টের জন্য আমাদের ওয়েবসাইটটি “The Best Messages” সাবস্ক্রাইব করুন। ভালো থাকুন আপনার দিনটি শুভ হোক।

সকালের সেরা নাস্তা, সকালের নাস্তায় কিছু স্বাস্থ্যকর খাবার, The best breakfast in the morning

সকালের সেরা নাস্তা, সকালের নাস্তায় কিছু স্বাস্থ্যকর খাবার, The best breakfast in the morning

সকাল বেলা যে কোনো রিলেটিভ এর বাড়ি গেলে একটাই কথা শোনাযাবে – খোকা নাস্তা করেছিস? কারণ সকালের নাস্তা আমাদের শরীরের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ কাবার। এটি সারা দিন আমাদেরকে প্রাণবন্ত ও সুস্থ সতেজ রাখতে এবং ভালোথাকতে সাহায্য করে। তাই প্রতিদিন সকালে স্বাস্থ্যকর এবং ভালো উপাদেয় নাস্তা খেলে মস্তিষ্ক ও বডি পুরোদিনের জন্য তৈরি হয়ে যায় এবং সারাদিন চলাফেরার শক্তি পাওয়া যায়। কিন্তু সব খাবারই স্বাস্থ্যকর ও আমাদের শরীরের জন্য উপযুক্ত নয়। তাই আমাদের জানতে হবে সকালের নাস্তায় কোন খাবারগুলো খাওয়া উচিত ও খেলে উপকার হবে।

Asgar Molla

Hi i am Asgar, I am a Graphic Designer & Fine Artist. The "Best Messages" is my blogging website. I am working on Varity of wishes, as like Happy Birthday, Happy Anniversary, Good Morning and Night post etc. You can read and share our messages and videos with your dear one. Thank you!

2 thoughts on “এক্রেলিক রং ও তেল রং এর পার্থক্য কী? তেল পেন্টিং কি? এক্রাইলিক কালার কি? What is oil painting? What is acrylic color?

Leave a Reply

%d bloggers like this: